গাজীপুর সাফারি পার্ক, পূর্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক নামে পরিচিত, বাংলাদেশের গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলায় অবস্থিত একটি বৃহৎ সাফারি পার্ক। প্রায় ৩,৬৯০ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই পার্কটি ২০১৩ সালে উদ্বোধন করা হয়
অবস্থান ও যাতায়াত: ঢাকা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাঘের বাজার থেকে ৩ কিলোমিটার পশ্চিমে পার্কের প্রধান প্রবেশদ্বার অবস্থিত
- কোর সাফারি পার্ক: এখানে বাঘ, সিংহ, জিরাফ, জেব্রা, বন্য হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণীকে তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত অবস্থায় দেখা যায়। দর্শনার্থীরা নির্দিষ্ট ফি দিয়ে মিনিবাসে করে এই অংশ ভ্রমণ করতে পারেন। Vromon Guide
- সাফারি কিংডম: এই অংশে বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রম ও প্রদর্শনী রয়েছে।
- ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম: প্রাণী ও প্রকৃতির ইতিহাস সম্পর্কিত প্রদর্শনী এখানে উপস্থাপিত হয়।
- প্রাপ্তবয়স্ক: ৫০ টাক
- অপ্রাপ্তবয়স্ক (১২ বছরের নিচে): ২০ টাকাYouTube
- ছাত্র/ছাত্রী: ১০ টাকা
- বিদেশী পর্যটক: ১,০০০ টাকাYouTube
- প্রাপ্তবয়স্ক: ১৫০ টাকা
- ছাত্র/ছাত্রী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক (১২ বছরের নিচে): ৫০ টাকা
বিস্তারিত ফি সংক্রান্ত তথ্যের জন্য পার্কের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট পরিদর্শন করতে পারেন।
সময়সূচি: পার্কটি সপ্তাহে ছয় দিন (মঙ্গলবার ব্যতীত) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রতি মঙ্গলবার পার্ক সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে।
গাজীপুর সাফারি পার্কে ভ্রমণ করে আপনি বন্যপ্রাণীদের প্রাকৃতিক পরিবেশে অবলোকন করতে পারবেন, যা শিক্ষা ও বিনোদনের জন্য একটি চমৎকার অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, গাজীপুর বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ এবং আধুনিক সাফারি পার্ক। এটি গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের বড় রাথুরা ও সদর উপজেলার পীরুজালী ইউনিয়নের পীরুজালী মৌজার শালবন এলাকায় অবস্থিত। পার্কটি প্রায় ৪,৯০৯ একর বনভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত, যার মধ্যে ৩,৮১০ একর এলাকাকে সাফারি পার্কের মাস্টার প্ল্যানের আওতাভুক্ত করা হয়েছে ।
- কোর সাফারি: এখানে উন্মুক্ত পরিবেশে বাঘ, সিংহ, জিরাফ, জেব্রা, হরিণ, হাতি, বানর, হনুমান, ভল্লুক, গয়াল, কুমির ও বিভিন্ন পাখি দেখা যায়। দর্শনার্থীরা প্রটেকটেড মিনিবাসে চড়ে এই বন্যপ্রাণীদের কাছ থেকে উপভোগ করতে পারেন ।
- ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম: বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতির বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানার জন্য এই মিউজিয়ামটি উপযুক্ত স্থান।
- তথ্য ও শিক্ষা কেন্দ্র: ভিডিও ব্রিফিং ও প্রামাণ্য চিত্রের মাধ্যমে সাফারি পার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাওয়া যায়।
- সাধারণ প্রবেশ ফি:
- প্রাপ্তবয়স্ক: ৫০ টাকাs
- অপ্রাপ্তবয়স্ক (১২ বছরের নিচে): ২০ টাকা
- ছাত্র/ছাত্রী: ১০ টাকা
- বিদেশী পর্যটক: ১,০০০ টাকা
- শিশু: বিনামূল্যে
- কোর সাফারি প্রবেশ ফি:
- প্রাপ্তবয়স্ক: ১৫০ টাকা
- ছাত্র/ছাত্রী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক: ৫০ টাকা
- অন্যান্য ইভেন্ট: প্রতি জন ২০ টাকা
- শিশু পার্কের রাইড: ২০-৫০ টাকা
🕒 সময়সূচি
- খোলা থাকে: সপ্তাহের ৬ দিন (মঙ্গলবার ব্যতীত) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।
- সাপ্তাহিক বন্ধ: মঙ্গলবার
পার্কটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ধরে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে বাঘের বাজার থেকে ৩ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। ঢাকা থেকে সরাসরি বাস বা প্রাইভেট গাড়িতে সহজেই পৌঁছানো যায় ।
পার্কের বিস্তারিত তথ্য, ছবি ও আপডেটের জন্য অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন:
এছাড়াও, ফেসবুক পেজে নিয়মিত আপডেট পাওয়া যায়: Bangabandhu Sheikh Mujib Safari Park, Gazipur
এই পার্কটি পরিবারসহ দিনব্যাপী ভ্রমণের জন্য একটি আদর্শ স্থান, যেখানে প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর সান্নিধ্যে চিত্তবিনোদনের সুযোগ রয়েছে।
গাজীপুর সাফারী পার্ক শীর্ষক প্রকল্পটি ২০১০ সালে ৬৩.৯৯ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে একনেক কর্তৃক অনুমোদিত হয় এবং পার্ক প্রতিষ্ঠা কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২০১১ সালের ২ ফেব্র“য়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্ক, গাজীপুর নামে এর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রকল্পের শুরুতে কোন মাষ্টার প্লান প্রণয়ন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞদের সহায়তায়
আন্তর্জাতিক মানের সাফারী পার্কে উন্নীত করার লক্ষ্যে একটি মাষ্টার প্লান তৈরী করা হয়। মাষ্টার প্লানে বর্ণিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে ৪ অক্টোবর ২০১১ তারিখে ’’বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্ক, গাজীপুর (১ম সংশোধিত) প্রকল্পটি একনেক কর্তৃক বর্ধিত আকারে ২১৯.৮৯ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে অনুমোদিত হয়। সাফারী পার্কটি দক্ষিণ এশীয় মডেল বিশেষ করে থাইল্যান্ডের সাফারী ওয়ার্ল্ড এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও ইন্দোনেশিয়ার বালি সাফারী পার্কের কতিপয় ধারণা সন্নিবেশিত করা হয়েছে। সাফারী পার্কের চারদিকে নির্মাণ করা হচ্ছে স্থায়ী ঘেরাা এবং উহার মধ্যে দেশী/বিদেশী বন্যপ্রাণীর বংশবৃদ্ধি ও অবাধ বিচরণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে যাতে পর্যটকগণ চলমান যানবাহনে অথবা পায়ে হেঁটে ভ্রমণ করে শিক্ষা, গবেষণা ও চিত্তবিনোদনের সুযোগ লাভ করবেন। সাফারী পার্কের ধারণা চিড়িয়াখানা হতে ভিন্নতর। চিড়িয়াখানায় জীবজন্তুসমূহ আবদ্ধ অবস্থায় থাকে এবং দর্শনার্থীগণ মুক্ত অবস্থায় থেকে জীবজন্তু পরিদর্শন করেন। কিন্তু সাফারী পার্কে বন্যপ্রাণীসমূহ উন্মুক্ত অবস্থায় বনজঙ্গলে বিচরণ করবে এবং মানুষ সতর্কতার সহিত চলমান যানবাহনে করে ভ্রমণ করতে পারবে। ৫ আগস্ট ২০২৪, শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় ভাঙচুর ও লুটপাটের কারণে জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ গাজীপুর সাফারি পার্কটি দীর্ঘ ৩ মাস ১১ দিন বন্ধ রাখা হয়।[১] পরবর্তীতে, পার্কটির সংস্কার শেষে ১৫ নভেম্বর ২০২৪ অতীতের নাম (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্ক) পরিবর্তন করে "গাজীপুর সাফারি পার্ক" নামকরণ করে যথারীতি নিয়মে পার্কটি চালু করা হয়।[২]
ঢাকা থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তরে ঢাকা - ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাঘের বাজার থেকে ৩ কিলোমিটার পশ্চিমে সাফারী পার্কটির অবস্থান। এর আয়তন ৩৬৯০ একর।[৩]
গাজীপুরের শাল বন ঐতিহাসিকভাবে ভাওয়াল রাজার জমিদারী অংশ হিসেবে খ্যাত ছিল। ১৯৫০ সলের জমিদারী উচ্ছেদ ও প্রজসত্ব আইন জারীর পর শালবনের ব্যবস্থাপনা বন বিভাগের নিকট হস্তান্তর করা হয়। তবে অধিকাংশ চালা জমির শালবন সমৃদ্ধ বনভূমি বিধায় বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাইদ জমি ব্যক্তিমালিকানাধীন। শালবন ঢাকার অতি নিকটে হওয়ায় দ্রুত শিল্পায়ন, জবর দখল, গো-চারণ ও ভূমিদস্যুতার কারণে শালবনের জীববৈচিত্র্য দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। শিল্পকারখানা হতে নিঃসরিত বর্জের কারণে জীববৈচিত্র্য মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।[৪]
(১) শাল বনের বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ।
(২) বাংলাদেশের বিরল ও বিলুপ্ত প্রায় বন্যপ্রাণীকে নিজ আবাসস্থলে (রহ-ংরঃঁ) এবং আবাসস্থলে বাহিরে (বী-ংরঃঁ) অবস্থায় সংরক্ষণ ও উন্নয়ন সাধন ।
(৩) ঢাকা মহানগরীর অতি নিকটে ইকো-ট্যুরিজমের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের বিকাশ, দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা ।
(৪) চিত্তবিনোদন, শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করা ।
(৫) বন্যপ্রাণীর খাদ্য উপযোগী ফলজ, ফডার, ও মিশ্র প্রজাতির বাগান সৃজন ।
(৬) শালবনের বন্যপ্রাণী যেমন বানর, মায়া হরিণ, বেজি, বনরুই, ছোট খাটাশ, বন বিড়াল, খরগোশ, শিয়াল, খেঁকশিয়াল ও অজগরসহ বিপন্ন বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল সৃষ্টি ও সংরক্ষণ করা ।
(৭) বিরল ও বিপন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণী যেমন বাঘ, চিতাবাঘ, সম্বর হরিণ, মায়া হরিণ, চিত্রা হরিণ, প্যারা হরিণ এবং অন্যান্য তৃণভোজী বন্যপ্রাণীর প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও বংশবৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করা ।
(৮) গণ্ডার, এশীয় হাতি, পাখি পরিযান, জলচর পাখি, বনছাগল, সিংহ, শ্লথ ভালুক, এশীয় কালো ভাল্লুক, স্বাদুপানির কুমির, লোনা পানির কুমির, নীলগাই, জলহস্তী ইত্যাদি বিপন্ন ও বিলুপ্ত বন্যপ্রাণীর প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণকরন ।
(৯) আহত ও উদ্ধারকৃত বন্যপ্রাণীর চিকিৎসার নিমিত্তে বন্যপ্রাণীর সেবাশ্রম ও হাসপাতাল স্থাপন ।
(১০) সারাদেশে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি
সাফারি পার্কে আছে জলহস্তী, বাঘ, সিংহ, হাতি, সম্বর হরিণ, মায়া হরিণ, চিত্রা হরিণ, ক্যাংগারু, জেব্রা, বানর, হনুমান, ভাল্লুক, গয়াল, কুমির ও বিচিত্র পাখি।
২০২১ এর সেপ্টেম্বরে নীল গাইয়ের দুইটি শাবক জন্মায়।[৫] নীল গাইটিকে এর আগে জবাইয়ের হাত থেকে বিজিবি উদ্ধার করে এই পার্কে দেয়।
কোর সাফারী পার্ক কোর সাফারী পার্কে সাফারী গাড়ী ব্যতীত কোন পর্যটক প্রবেশ করতে পারবেন না তবে তিনি বন্যপ্রাণী বেষ্টনীতে মুক্ত অবস্থায় প্রাকৃতিক পরিবেশে বিচরণরত বন্যপ্রাণী সমূহ গাড়ীতে চড়ে অবলোকন করতে পারবেন। কোর সাফারী পার্ক ১৩৩৫ একর এলাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হবে-যার মধ্যে ২০.০ একরে বাঘ, ২১.০ একরে সিংহ, ৮.৫০ একরে কালো ভালুক, ৮.০ একরে আফ্রিকান চিতা, ৮১.৫০ একর চিত্রা হরিণ, ৮০.০ একরে সাম্বাব ও গয়াল, ১০৫.০ একরে হাতী, ৩৫.০ একরে জলহস্তী, ২২.০ একরে মায়া ও প্যারা হরিণ, ২৫.০ একরে নীলগাই এবং বারো সিংগা, ১১৪.০ একরে ঙৎুী এধুবষষব, ঝধনষব এবং ইষধপশ ইঁপশ সহ পাখীদ্বীপ, ৪০৭.০ একরে বন্য মহিষ, ডধঃবৎ ইঁভভধষড়, ডধঃবৎ ইঁপশ এবং ওহফরধহ ইরংড়হ থাকবে এবং আফ্রিকান সাফারী পার্কের জন্য বরাদ্দ ২৯০.০ একর এলাকাকে সুবিন্যাস্থ করা হবে।
সাফারী কিংডমে পর্যটকগণ পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়াতে পারবে এবং প্রাণিকূলকে ছোট-খাট বেস্টনীর মধ্যে আবদ্ধ রাখা হবে। সাফারী কিংডমের
0 Comments